ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২৫
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় সংঘটিত একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। রবিবার বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অপু বিশ্বাস নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে বলেন, “আমি একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পী। অভিনয়ই আমার পেশা, রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, আমি তা বুঝিও না।”
তিনি কালো মাস্ক, সাদা ওড়না ও বোরকায় আদালতে উপস্থিত হন। তার পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান জামিন আবেদন করে বলেন, “অভিযোগপত্রে কোথাও বলা হয়নি যে তিনি অর্থের যোগান দিয়েছেন। এমনকি বাদী হলফনামায় স্বীকার করেছেন, ‘ভুল হয়ে গেছে’, এবং আসামির বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ নেই।”
শুনানি চলাকালে কিছু আইনজীবী সরাসরি অপু বিশ্বাসকে “ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী” বলে কটাক্ষ করেন। তাদের ভাষ্য, তিনি মঞ্চে নেচে-গেয়ে রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার প্রচারণায় অর্থ বা পারফর্মের মাধ্যমে সহায়তা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর হামলার পরও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছেন। অপু বিশ্বাসও সেই তালিকার অংশ।”
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অপু বিশ্বাস বলেন,
“আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, সেভাবেই অভিনয় করি। একজন শিল্পীর পক্ষে সব রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। আমি তখন পারিবারিক সংকটে ছিলাম, আমার একটি শিশু সন্তান আছে।”
এই বক্তব্যের সময় তাঁর চোখ ছলছল করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গত বছরের ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি। পরে তিনি শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, নুসরাত ফারিয়া, আশনা হাবিব ভাবনা, ও জায়েদ খান। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে মঞ্চে কাজ করেছেন এবং অর্থের যোগান দিয়েছেন।
এই মামলায় গত ১৮ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নুসরাত ফারিয়া। পরে ২০ মে তিনি জামিন পান।
অপু বিশ্বাস ২ জুন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে — একজন অভিনয়শিল্পীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কতটা স্বীকৃত? একজন তারকা যখন কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন, তখন সেটি কি সমর্থনপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়? নাকি শুধুই একটি পেশাগত দায়?
অপু বিশ্বাসের মামলা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শিল্পী বা তারকারা যখন রাজনৈতিক বিভাজনের কেন্দ্রে পড়ে যান, তখন তাঁদের পরিচিতি, জনপ্রিয়তা এবং পেশাও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পড়ে।
মামলার সংখ্যা: ১টি (হত্যাচেষ্টা মামলা)
মূল অভিযোগ: আন্দোলন দমনকালে সহায়তা
প্রধান আসামি: অপু বিশ্বাসসহ ১৭ জন তারকা
বাদী: এনামুল হক (গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি)
জামিন আদেশ: ১০ হাজার টাকার মুচলেকায়
বিচারক: মোস্তাফিজুর রহমান
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |